
মোঃ মাইদুল ইসলাম
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পুকুরে উন্নত জাতের মাছের পোনা অবমুক্তির মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। পরে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপ জন মিত্র এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ খোরশেদ আলম।
‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, মাইলস্টোন কলেজের বিমান দুর্ঘটনার কারণে মৎস্য সপ্তাহ পালনের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, মৎস্য অভয়াশ্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, এবং সামাদের ঘাট এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মৎস্য খামারি আবুল বারি বলেন, “মাছ চাষ একটি তৃপ্তির জায়গা। এটি বেকারত্ব দূরীকরণেরও কার্যকর উপায়, তাই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
মৎস্য খামারি আবু হাসান সোহেল জানান, “মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছি।”
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রোকনুজ্জামান বলেন, “আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। বাড়ির আশেপাশে মাছ চাষ করে দেশের মাছের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।”
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য কাজী নিজাম উদ্দিন তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “১৯৮৭ সালে চিংড়ি চাষ করে আমি স্বাবলম্বী হয়েছিলাম।”
প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ আনারুল ইসলাম বলেন, “মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করছে। পুষ্টিহীনতা দূর করতে হলে মাছ চাষে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।”
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “মাছ চাষ শুধু পুষ্টি নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় মাছ চাষকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।”
বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল ভূরুঙ্গামারীর পুকুর, খাল, ডোবা ও অন্যান্য জলাশয়ে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন বলেন, “অনেক জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময় এসেছে। কৃষি ও মাছ চাষে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিলে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব। পাশাপাশি বাড়ির পুকুরে মাছ চাষ করলে আত্মীয়-স্বজন এলে বাজারে না গিয়েও সহজে মাছ পরিবেশন করা যায়।”
কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “একসময় আমরা তিন বেলা ভাত পেতাম না, এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না। কৃষির সাথে মাছ চাষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ভাত খেতে হলে মাছ প্রয়োজন, তাই মাছ চাষে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও দীপ জন মিত্র বলেন, “পুকুর, খাল, বিল ও জলাশয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে ভূরুঙ্গামারীর অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।” তিনি সকল বক্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুরস্কার বিতরণ করেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন: পোনা মাছ চাষে আন্ধারীঝাড়ের মাছ চাষি মোঃ আবু হাসান সোহেল, কার্পজাতীয় মাছের মিশ্রচাষে বাগভান্ডারের মৎস্য খামারি মোঃ আব্দুল বারিক, দেশীয় শিং মাছ চাষে পাথরডুবির দক্ষিণ বাঁশজানির মাছ চাষি মোঃ আবু সাইদ,
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল আলম, ভূরুঙ্গামারী যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ আরিফ হোসেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষি, রোভারের সদস্য, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এই কর্মসূচিতে বক্তারা একমত হন যে— মাছ চাষের প্রসার ঘটলে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও নিশ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :