ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পূর্ব পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নীতি বহির্ভুতভাবে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষককে আল্টিমেটাম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। আর স্ত্রীকে কমিটি অন্তর্ভুক্ত করে এক দিনের মধ্যে রেজ্যুলেশন না করলে প্রধান শিক্ষককে বান্দরবান বদলি করার হুমকি দিয়েছেন সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম সাজেদুল ইসলাম মোল্লা। তিনি উপজেলার রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আইনুল হক মোল্লার ছেলে। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেছিলেন। সাজেদুলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মৌসুমিকে বিধিবহির্ভুতভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে স্থান দেওয়ার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাসহ সরকারি খাস জমি দখল করে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছেন ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চিলমারীর বাসিন্দা মাইদুল ইসলামের পরিবার। রবিবার (২ জুলাই) স্কুলটি পরিদর্শন করতে গিয়ে চিলমারী ইউএনও মাহমুদুল হাসান দোহার ইউএনও মাইদুল ইসলামের ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রীকে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক না হওয়ায় নীতিমালা অনুযায়ী সাবেক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীকে কমিটিতে নেওয়ার সুযোগ নেই জানালে ইউএনও প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কমিটি তৈরির আল্টিমেটাম দিয়ে স্কুল ত্যাগ করেন। সোমবার (৩ জুলাই) সকালে সাজেদুল স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ফের চাপ প্রয়োগ করেন। প্রধান শিক্ষক অস্বীকৃতি জানালে সাজেদুল প্রধান শিক্ষককে বান্দবনে বদলি করার হুমকি দেন। চিলমারী ইউএনও এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতার চাপে পড়ে নীতিমালা ভঙ্গ করে প্রধান শিক্ষক কমিটি প্রস্তুত করে ইউএনও অফিসে নিয়ে যান।
স্কুলটির এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ ওই নারীর ( সাবেক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীর) সন্তান স্কুলে ভর্তি নেই। তিনি কোনও ক্যাটাগরিতে কমিটিতে স্থান পেতে পারেন না। কিন্তু ইউএনও স্যার ওই নারীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আর সাজেদুল সকালে স্কুলে এসে সকলের সামনে তার স্ত্রীকে কমিটিতে রেখে আজই রেজ্যুলেশন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। না হলে প্রধান শিক্ষককে বান্দরবানে বদলির হুমকি দেন।’
আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি যে কোন বিধিতে তাকে কমিটিতে নিতেছেন। জবাবে তারা বলেছেন যে “আমরা রাস্তা দেব”। কিন্তু জায়গাতো সরকারি খাসজমি। তারা কীভাবে সেটা দান করবে? দান করার আগেই কীভাবে দাতা সদস্য হতে পারেন? ’ প্রশ্ন রাখেন ওই সহাকারী শিক্ষক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রিয়াজবিন বানু বলেন, ‘ আমি আসলে কী বলবো। ইউএনও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তিনি যখন নির্দেশ দিয়েছেন নিশ্চয় বুঝে শুনে দিয়েছেন।’
সাবেক ছাত্রলীগ নেতার হুমকি প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ আমার কিছু বলার নেই। এসব বিষয় আপনারা ধরিয়েন না।’
জানতে চাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমরা জমি লিখে দিয়েছি। এজন্য আমার স্ত্রীকে কমিটিতে নেওয়া হচ্ছে। আমি প্রধান শিক্ষককে কোনও হুমকি দেইনি। আমি হুমকি দেওয়ার কে! তাছাড়া আমি কোনও রাজনীতি করি না। ’
তবে সাজেদুলের দাবির কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, ‘ স্কুলের রাস্তার জন্য কোনও জমি লিখে দেওয়া হয়নি। তারা স্কুলের রাস্তাসহ যে জমি দখল করে রেখেছে তা সরকারি খাস জমি বলে আমরা জানি। সেটা কীভাবে স্কুলকে লিখে দিবে তা আমরা বলতে পারছি না।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ নীতিমালার বাইরে গিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি করার কোনও সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানাননি। আমার কাছে কাগজপত্র আসলে আমি যাচাই করে দেখবো।’
নীতিমালা ভঙ্গ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রীকে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাখার বিষয়ে চিলমারী ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ আমি অতো কিছু জানি না। স্কুলের রাস্তা করতে যা করতে হয় আমি করবো।’ কিন্তু যুবলীগ নেতা সাজেদুলের পরিবারের দখল উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।






