
ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় নির্মিত পাবলিক লাইব্রেরি ভবন উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি কার্যক্রম। জনবল নিয়োগ, বই সংগ্রহ, পর্যাপ্ত আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি রাতে ভবনের সামনের খোলা জায়গায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষকে মশারি টাঙিয়ে রাতযাপন করতেও দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় নির্মিত পাবলিক লাইব্রেরি ভবনটিও উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে ১৯ জুন ২০২৫ দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেশের ১১টি জেলার ৪৪টি উপজেলায় লাইব্রেরি ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত সংবাদ ২০ জুন ২০২৫ তারিখে দৈনিক সকালের সময়-এ প্রকাশিত হয়।
পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, তরুণ সমাজ ও সাধারণ পাঠকদের জন্য জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি করা। বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি, জ্ঞান ও তথ্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ।
কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভূরুঙ্গামারীর লাইব্রেরিতে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। লাইব্রেরিটির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরি ভবনের ভেতরে অল্প কিছু চেয়ার-টেবিল ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো আসবাবপত্র নেই। পাঠকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বই, পত্রিকা ও জ্ঞানমূলক সামগ্রী থাকার কথা থাকলেও ভবনটিতে কোনো বইপত্র চোখে পড়েনি। বই, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিংবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্থানীয়ভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এর সামনের খোলা জায়গা এখন অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। রাতে সেখানে কেউ কেউ মশারি টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে শুধু ভবন নির্মাণ ও উদ্বোধন করলেই এর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। পর্যাপ্ত বই, আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি। দ্রুত কার্যক্রম শুরু না হলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, পাবলিক লাইব্রেরি ভবনটির বর্তমান অবস্থা ও কার্যক্রম না চলার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
সচেতন মহলের মতে, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে একটি সক্রিয় পাবলিক লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে লাইব্রেরিটির কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, বই, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ করে পাঠকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে ভূরুঙ্গামারী পাবলিক লাইব্রেরিটি শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। নির্মাণ ও উদ্বোধনের মধ্যেই যেন প্রকল্পের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :