ডেস্ক নিউজ
ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে নৌপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হলেও চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নৌপথে ফেরি না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, নাব্যতা সংকট দূর করতে কোটি টাকা ব্যয়ে চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খননকাজ করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে শুরু হওয়া খননের পর নৌপথে ফেরি চলাচলের প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে চ্যানেল সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে।
তবে এর মধ্যেই নৌপথটি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। গত আগস্টে নাব্যতা সংকটের কথা বলে ফেরি চলাচল বন্ধের পর পর্যায়ক্রমে তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের কথা বলে একমাত্র সচল ফেরি ‘কদম’ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। এরপর থেকে এ রুটে আর কোনো ফেরি নেই।
ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে চালকদের। এতে সময় ও জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি পচনশীল পণ্য পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয় করে নৌপথ খনন করে প্রস্তুত রাখার পরও যদি ফেরি চালু না থাকে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) দ্রুত ফেরি চালুর তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে নিয়মিত ফেরি না চললে নৌপথে পুনরায় পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এ রুটে ‘কুঞ্জলতা’, ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘কদম’ নামে তিনটি ফেরি চলাচল করত। তবে চালুর কয়েক বছরের মধ্যেই বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে না।
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় মালামাল নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মাহমুদুল আলম তায়েফ বলেন, ঘাট ব্যবস্থাপনাসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বিআইডব্লিউটিএ পরিচালনা করে। নৌপথের নাব্যতা সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত ফেরি চালু এবং নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখতে দুই সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত ড্রেজিং চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।
