
মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের সদস্যপদ স্থগিত করেছে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার মোঃ তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক লিখিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়। তবে উক্ত নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
লিখিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, শোকজ নোটিশের প্রেক্ষিতে দাখিলকৃত জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই অ্যাডভোকেট পরিচয়ে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একই শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় একাধিক জাল সনদপত্র ও নম্বরপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে তাকে বিজ্ঞ আদালতসমূহে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
পত্রে আরও বলা হয়, আগামী ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে তিনি অ্যাডভোকেট পরিচয়ে কোনো বিজ্ঞ আদালতে মামলা বা মোকদ্দমা পরিচালনা করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমি কোনো মামলার বিষয়ে তাদের কাছে যাই না এবং কোনো পরামর্শও নিই না। হয়তো সেই ক্ষোভ থেকেই আমার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। বারের সভাপতি ও সেক্রেটারি আমার অভিভাবক। তারা যখন বুঝবেন আমি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি বা আমি তাদের কাছে গেলে যদি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন, তাহলে আমি আবার আদালতে প্র্যাকটিস করতে পারব।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার মোঃ তাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :