ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গোডাউন ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোডাউনের জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। তবে গোডাউন ভাঙার কথা স্বীকার করলেও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছোট ভাই।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ ও অভিযুক্ত সহিদুল ইসলাম লিটন আপন দুই ভাই। এ ঘটনায় তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৪ সালে বিরোধপূর্ণ জমির সড়কসংলগ্ন অংশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন সহিদুল ইসলাম লিটন। পরে পরিবারের সদস্যদের চাপে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দেয়ালটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী থাকার দাবি
হাফিজুর রহমানের দাবি, ১৯৭৮ সালে তিনি নিজের নামে জমি কিনে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে একই দাগ ও খতিয়ানে তাঁর ছোট ভাইও জমি কেনেন।
ঠিকাদারি ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য ওই গোডাউনে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল বলে জানান হাফিজুর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বান ঢেউটিন, দেড় হাজার কেজি প্লেইন শিট, বিভিন্ন মাপের এমএস শাটার, ভাইব্রেটর মেশিন, পাম্প, রডসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল।
হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে গোডাউন ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মালামাল খুঁজে পাননি। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি ছোট ভাইয়ের
অভিযোগ অস্বীকার করে সহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, তাঁর বড় ভাই দুই বিঘা এবং তিনি এক বিঘা জমি কিনেছিলেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁদের বাবা ওই জমিতে গোডাউন নির্মাণ করেন। জমি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে।
লিটনের দাবি, সাত-আট মাস আগেও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। এরপরও গোডাউন সরানো না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেটি ভেঙে মালামাল তাঁর পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনো মালামাল নেননি বলেও দাবি করেন।
এখনো থানায় অভিযোগ হয়নি
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর রহমানের ভোগদখলে ছিল বলে তাঁরা দেখে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন লোক ও শ্রমিক নিয়ে গোডাউনটি ভাঙা হয়। তবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা প্রত্যক্ষ করেননি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানা গেছে। জমির মালিকানা, গোডাউন ভাঙা এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।






