ফজলুল করিম ফরাজী, বিশেষ প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষায় কাদায় চলাচল অনুপযোগী আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, বেলেরতল, গোড়াই কল্যাণসহ আশপাশের পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটির বেহাল দশার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন। ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বাড়ছে। পাশাপাশি রোগী পরিবহনেও নানা বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। ফলে জরুরি রোগীবাহী যানবাহন চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুকনো মৌসুমে সড়কজুড়ে ধুলোর কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়।
সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোগলবাসা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজ, নূরেশ্বর আমিনি আলিম মাদ্রাসা ও পাঁচপীর আলিম মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হয়। এতে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
তবে সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে এলাকার তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সরকারি উদ্যোগ ছাড়া সড়কটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। তাদের মতে, সড়কটি উন্নত হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই সহজ হবে না; কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, “লিখিত আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।






