আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের নাটুয়া মহল এলাকায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সেটিতে এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে নির্মাণের পরও কালভার্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও কয়েক শ শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কে নয়টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও নাটুয়া মহলের কালভার্টটিতে এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, নাটুয়া মহলের কালভার্ট নির্মাণে ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটির দায়িত্ব পান ঠিকাদার নূর আলম। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই এ প্রকল্পে ২৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা, অর্থাৎ বরাদ্দের প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরোনো কালভার্টসহ সড়কটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর প্রায় চার মাস আগে সংযোগ সড়ক ছাড়াই কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। পরে কালভার্টে ওঠানামার জন্য সড়কের পাশে বাঁশ দিয়ে একটি উঁচু মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়া প্রতিদিন চার হাজার মানুষ চলাচল করে, কিন্তু সংযোগ সড়ক করা হয়নি।’
আরেক বাসিন্দা পরেশ বর্মন বলেন, ‘আগে রাস্তা ছিল, ব্রিজটাও ভাঙা ছিল। তবু হাঁটাচলা করা গেছে। এখন ব্রিজ আছে, রাস্তা নেই। তাহলে লাভ কী হলো?’
অটোচালক গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, কালভার্টটি সড়কের তুলনায় প্রায় ছয় ফুট উঁচু হওয়ায় যানবাহন নিয়ে সেখানে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাঁদের প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সড়কটি দিয়ে রাজারহাট ইউনিয়নের শামকালিয়া, রামপাড়া, নয়াবাড়ি, পোদ্দারপাড়া ও চেতনা গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে।
সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবনী রায় বলেন, ‘আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীদের তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। কেউ কেউ হেঁটেও যায়। এতে সময় ও কষ্ট দুটোই বেশি হয়।’
এদিকে কালভার্ট নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পানি থাকার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কাজটি শুরু করা হবে।’
প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হয়নি।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কালভার্টটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। এতে পাঁচ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যও বাস্তবায়িত হবে।






