
নিউজ ডেস্ক অনলাইন
অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের দখল, অনিয়ম ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি ১৯টি সাংস্কৃতিক, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও নাগরিক সংগঠন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পাঠাগারটি ব্যক্তিস্বার্থে রিডিং রুম ও কোচিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তিনি দাবি করেন, “পাঠাগারটি ১৯৬৯ সালে গঠিত হলেও ২০১৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন একে ‘ক্যারিয়ার প্ল্যানিং সেন্টার’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকে এখানে চাকরিপ্রার্থীরা পাঠাগারের বই ব্যবহার করে পড়াশোনা করছেন। তৎকালীন সময়ে এনডিসি, এসিল্যান্ড ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিতেন।”
তিনি আরও বলেন, করোনাকালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলে কিছু বাম সংগঠন পাঠাগারের দোতলার রুম অবৈধভাবে দখল করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতো। এসময় তারা সিগারেটসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য সেবন করতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। “বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেলে জায়গার সংকট দেখা দেয়। বারবার রুম ছেড়ে দিতে বললেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। ফলে পাঠাগার কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা মিলে রুমটি খুলে মাদকের উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করে সেখানে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে আবার পাঠাগারের কাজে ব্যবহার শুরু করেছেন।” — দাবি করেন আব্দুর রাজ্জাক রাজ।
অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, পাঠাগারের ভেতরে চাকরির গাইড ও ব্যক্তিগত বই স্তুপ করে রাখা হয়েছে, টেবিল-চেয়ার ভাগ করে ব্যক্তিগত নামে দখল সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা অবৈধ দখল উচ্ছেদ, কোচিং কার্যক্রম বন্ধ, অমূল্য বই সংরক্ষণ এবং দোতলার কক্ষটি পুনরায় “কুড়িগ্রাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের” কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পাঠাগারের সভাপতি সিফাত মেহনাজ বলেন, “আমি স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ নিয়ে স্থানীয় মহলে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। এখন দেখার বিষয় জেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।
আপনার মতামত লিখুন :