
জাহিদ হাসান ।। বিশেষ প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুরে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় ফেরত গেছে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৫ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৩২৯ টি উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) করার উদ্যোগ নেয় সরকার। উলিপুরসহ জেলার কয়েকটি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। দুই বছর আগে নাগেশ্বরী উপজেলায় অবকাঠামো নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে উলিপুরে ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা মেয়াদকাল শেষ হলেও এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উলিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের (টিএসসি) জন্য পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বরাদ্দের ১৫ কোটি টাকা ফেরত গেছে। কি কারণে অধিগ্রহণ হলো না তারও কোন সদুত্তর নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। অথচ কলেজটি স্থাপন হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নদীভাঙন কবলিত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখতো প্রতিষ্ঠানটি।
তথ্য মতে, তিন একর জমিতে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন বিশিষ্ট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নির্মাণ হবে। কলেজে থাকবে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন, ২০০ শিক্ষার্থীর নিবাস, শিক্ষক ডরমেটরি, শহীদ মিনার, ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে বরাদ্দের টাকা নিয়ম অনুযায়ী ফেরত চলে যায়।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের জন্য উলিপুর বাস টার্মিনালের পাশে হাঁয়াৎখা মৌজায় তিন একর জমির প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর জমির কাগজ ও ভিডিওসহ অধিকতর সুবিধাজনক জমি পাওয়া গেলে তার প্রস্তাব ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসককে পাঠাতে বলা হয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের (কারিগরি) তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মাসুম আহাম্মেদ চৌধুরী এ নির্দেশ দেন।
একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) নিশাত তামান্না জমির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানোর জন্য উলিপুর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) চিঠি দেন। যথা সময়ে প্রস্তাব না পাওয়ায় ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি আবারও বিকল্প প্রস্তাব চেয়ে উলিপুর সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) চিঠি দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে উলিপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রামদাস ধনিরাম মৌজার ব্যক্তি মালিকানাধীন তিন একর জমি অধিগ্রহণের বিকল্প প্রস্তাব দেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত জমির এলাকা পরিদর্শন করে পুকুর বাদ দিয়ে প্রকল্পের চাহিদা মোতাবেক জমির কাগজপত্রসহ সংশোধিত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. মো. মশিউর রহমান। কিন্তু এরপর কোন কার্যক্রম না থাকায় জমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। ইতিমধ্যে গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। যারফলে ফেরত গেছে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা।
তথ্য প্রযুক্তির যুগে কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাস বিষয়ে গবেষক আবু হেনা মুস্তফা বলেন, উলিপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ হলে দরিদ্র পীড়িত এলাকার শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখতো। কিন্তু পাঁচ বছর পার হলেও কার গাফিলতির কারণে জমি অধিগ্রহণ হলো না এবং বরাদ্দের টাকা ফেরত গেল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, গত বছরের আগস্ট মাসে জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ইউএনও অফিসে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) মো. আবু তাহের বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের টাকা নিয়ম অনুযায়ী ফেরত যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :