হামার কুড়িগ্রাম

শাক বিক্রি করেই সাত সদস্যের পরিবারের জীবিকা চালান রানা মিয়া

এনামুল হক সরকার, রাজারহাট

শীতের সন্ধ্যা। বাজারের কোলাহলের মধ্যে ভেসে আসছে এক বিক্রেতার ডাক—‘লালশাক ছয় আঁটি ২০ টাকা, সবুজ শাক চার আঁটি ২০ টাকা। আসেন, শাক নিয়ে যান।’ এভাবেই ক্রেতাদের ডাকছেন রানা মিয়া। শাক বিক্রি করেই সাত সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগামী সড়কসংলগ্ন রেললাইনের ওপর বসে রাতে শাক বিক্রি করেন ৩৭ বছর বয়সী রানা। তাঁর বাড়ি উপজেলার মেকুরটারী গ্রামে। তিনি মৃত মনসুর আলীর ছেলে।

রানার শাকের পসরা থেকে প্রয়োজনীয় শাক কিনে নিয়ে যান নানা বয়সী মানুষ। এক ক্রেতা হীতেন চন্দ্র রায় কিনতে এলেন লালশাক ও মুলাশাক। একই সঙ্গে দুই ধরনের শাক কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছ দিয়ে রান্না করলে এ দুই শাক খেতে বেশ সুস্বাদু লাগে।

আরেক ক্রেতা স্কুলশিক্ষক রুবেল কিনলেন পুঁইশাক। দামদর শেষে এক জোড়া পুঁইশাক নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি। অন্যদিকে ক্রেতা সামচ্ছুজ্জোহা সবুজ কিনলেন ২০ টাকার পাটশাক। শাক পছন্দ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ডাল, শাক আর ভাত তাঁর প্রিয় খাবার।

রানা মিয়া জানান, রাজারহাটের আড়ত থেকে পাইকারি দামে লালশাক, পাটশাক, সরিষাশাক, মুলাশাক, লাউশাক ও পুঁইশাক কিনে খুচরা বিক্রি করেন তিনি। তাঁর পরিবারের সদস্য সাতজন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।

রানা বলেন, ‘হালাল ব্যবসা করি। এতে যা আয় হয়, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকি। পরিবারের সাতজনের ভরণপোষণ আমাকে একাই চালাতে হয়।’

তিনি আরও জানান, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আখ ও গ্যান্ডারির ব্যবসা করছেন। রংপুরের পাগলাপীর ও বড়ভিটা এলাকা থেকে আখ ও গ্যান্ডারি নিয়ে এসে বিক্রি করেন। তবে সব সময় এসব পণ্য পাওয়া যায় না। তাই পাশাপাশি শাক বিক্রি করেন তিনি।

জীবন নিয়ে বড় কোনো প্রত্যাশা নেই রানার। নেই দোতলা বাড়ি নির্মাণের স্বপ্নও। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুবেলা পেটভরে খেতে পারলেই তৃপ্তি তাঁর।

সাধারণ এই শাক বিক্রেতার কাছে জীবনের সুখ মানে সততার সঙ্গে উপার্জন, পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া আর অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় রাজারহাটের রেললাইনের পাশে শাকের পসরা সাজিয়ে সেই জীবনসংগ্রামই চালিয়ে যাচ্ছেন রানা মিয়া।

Exit mobile version