কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে মায়ের তরীর ৯ গুরুগৃহে চলছে লোকগান ও বাদ্যযন্ত্রের চর্চা
আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি ছাড়িয়ে লালনের গান ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্ত জনপদে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের শিশুরাও শিখছে লালনগীতি। গানের পাশাপাশি তারা জানছে লালনের সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক দর্শনের কথা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই সিংহীমারী গ্রামের সেবালয় গুরুগৃহে একতারা, দোতারা ও বেহালা হাতে শিশুদের লোকগানের চর্চা করতে দেখা যায়। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সুরালয় গুরুগৃহেও চলছে একই ধরনের প্রশিক্ষণ।
সেবালয় গুরুগৃহের প্রধান গুরু নারায়ণ রায় বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে নিয়মিত লোকগানের চর্চা জরুরি। গানের কথা ও অর্থ বুঝিয়ে শেখালে শিশুরা সংগীতের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও জানতে পারে।
প্রায় এক দশক আগে লোকসংস্কৃতি ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘মায়ের তরী’র যাত্রা শুরু হয়। নরওয়ের কবি, লোকগবেষক ও আলোকচিত্রী উয়েরা সেথের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই সংগঠন এখন কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। তাদের ৯টি গুরুগৃহে লোকগান ও লোকবাদ্যযন্ত্রের চর্চা হয়।
মায়ের তরীর সংগঠক ইউসুফ আলমগীরের মতে, লালনের গান নদী-জনপদের শিশুদের কাছে পৌঁছে দিলে তাঁর মানবিক দর্শনও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ জানান, ভবিষ্যতে লোকসংগীত ইনস্টিটিউট ও ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হারিয়ে যেতে বসা লোকগান, বাদ্যযন্ত্র ও শিল্পীদের জীবনকথা সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রবীণ লোকশিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরির উদ্যোগও নিতে চান তাঁরা।
কুড়িগ্রাম লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক আতিক বলেন, লালনের গান কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলার মানুষের মানবিক চেতনার অংশ। প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের মধ্যে এই চর্চা ছড়িয়ে পড়া তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

