ফুলবাড়ী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত ২০ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবীর নাম থাকায় তাদের দলীয় পদ গ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা বিএনপির ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের চিঠিতে কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে মো. শামসুজ্জামান হাঁসুকে আহ্বায়ক, মো. লোকমান হোসেন সরকারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, মো. আরাবুর রহমান ও মো. আরিফুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আব্দুল মান্নান মুকুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির তালিকা অনুযায়ী, আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাঁসু শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুলও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, সরকারি সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের প্রভাষক শাহিনুর রহমান শাহিন এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার কর্মকর্তা তহিদুল হকের নাম রয়েছে কমিটিতে। তালিকায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের নামও আছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) উপবিধিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। কমিটির সদস্যদের চাকরির ধরন ও বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী তাঁদের ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাঁসু বলেন, “আমি নির্বাচন করব, এজন্য চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সেই অব্যাহতি পত্র দেওয়া আছে।”
সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবাই ভোট করব, এজন্য অব্যাহতি নিয়েছি। তাছাড়া একটি মহল আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তবে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাঃ আব্দুল লতিফ বলেন, “আপনারাই এর উত্তর ভালো জানেন।” শামসুজ্জামান হাঁসু ও আব্দুল মান্নান মুকুল চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অব্যাহতি পত্র পাইনি। যদি কেউ বলে থাকে, সেটা মিথ্যা।”
অব্যাহতিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আহ্বায়কের বক্তব্যের সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে অমিল রয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকরিজীবীদের রাজনীতি করার সুযোগ যদি না থাকে, সে ক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা বিএনপির চিঠিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে আংশিক কমিটির সদস্যদের পেশাগত পরিচয় ও দলীয় পদ গ্রহণের বিষয়ে প্রযোজ্য বিধিবিধান যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

