আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের আট গ্রামের মানুষ। প্রায় তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর ওপর প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটির মাঝামাঝি অংশের প্রায় অর্ধেক ভেঙে গেছে। কেউ বুকসমান পানি পেরিয়ে, কেউ সাঁতার কেটে নদী পার হচ্ছেন। আবার কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশের ওপর দিয়েই চলাচলের চেষ্টা করছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করতেন। এবার তা না করায় বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রায় তিন মাস আগে সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে যায়।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজার এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ছেলে-মেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।’
স্থানীয় মুদি দোকানি আকাশ মাহমুদ বলেন, এলাকার দেড় থেকে দুইশ শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানান, সাঁকোটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিকল্প সড়ক না থাকায় কখনো সাঁতার কেটে, আবার কখনো ভাঙা সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






