চিলমারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন সাইদার মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে ভাঙা কাচের আঘাতে তাঁর বাম হাত গুরুতর জখম হয়। অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর ক্ষতস্থানে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাতের ভেতরে থাকা কাচের টুকরো শনাক্ত করা হয়নি। পরে এক মাসের বেশি সময় যন্ত্রণা ভোগের পর এক্স-রেতে কাচের দুটি টুকরো ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভূমিহীন ও দরিদ্র। অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাচের ওপর আঘাত পান তিনি। এতে তাঁর বাম হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সাইদার মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা বলে তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে হাতের ভেতরে কাচের টুকরো রয়ে গেছে কি না, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি।

হাসপাতাল থেকে ফেরার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাতের ব্যথা ও যন্ত্রণা সহ্য করেন তিনি। পরে এক্স-রে করালে হাতের ভেতরে কাচের দুটি টুকরো ধরা পড়ে। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়।
সাইদার মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাচের ওপর আঘাত পাই। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক্স-রে করে দুটি কাচের টুকরো পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো বের করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকেই ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও। চিলমারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ড্রেসিং ও এক্স-রে করা হলে তাঁকে দীর্ঘদিন এমন যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো না বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুঃখ প্রকাশ ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের মধ্যে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সর্বশেষ সংবাদ
- সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েলকে কেন্দ্রের শোকজ
- ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ শিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
- গুজব ও অনলাইন হয়রানি মোকাবেলায় কুড়িগ্রামে যুব-প্রশাসন সংলাপ
- ৫-৬ বছর ধরে বেহাল নলেয়ার রাস্তা, সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী
- কুড়িগ্রামে ৭১ সদস্যের জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু
- হাতের ভেতরে কাচ রেখেই সেলাই, এক মাস পর অস্ত্রোপচার; চিকিৎসকের দুঃখ প্রকাশ












