বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে গরু বিতরণ, তালিকা-বরাদ্দের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

তালিকা ও স্থানীয় বরাদ্দের তথ্য চান সাংবাদিকেরা; উপকারভোগীর সংখ্যা নিয়েও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অমিল

ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১১টি গরু দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উপকারভোগীদের তালিকা, গরু কেনার ব্যয় এবং উপজেলায় বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চেয়েও তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। কর্মসূচিতে কতজন গরু পেয়েছেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে অমিল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান জানান, ১১ জন ভিক্ষুকের মধ্যে গরু বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে উপকারভোগীদের নামের তালিকা ও স্থানীয় বরাদ্দের তথ্য জানতে চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হননি। তাঁর ভাষ্য, তালিকায় ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি এবং তিনজন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন না। পরদিন স্বাক্ষর নিয়ে তালিকা দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, ১১ জনের মধ্যে তিনজন উপস্থিত না হওয়ায় ০৮ জনকে গরু দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি উপস্থিত হলে তাঁকেও গরু দেওয়া হবে। তবে উপকারভোগীদের তালিকা ও স্থানীয় বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি।

দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে অনুপস্থিত উপকারভোগীর সংখ্যা নিয়েও অমিল রয়েছে। সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেছেন, তিনজন উপস্থিত ছিলেন না; ইউএনওর ভাষ্য, অনুপস্থিত ছিলেন একজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়টি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপেও জানানো হয়েছে।

উপস্থিত স্থানীয় নেতারা বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ২০১৯ সালে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য জাতীয় পর্যায়ে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে ভূরুঙ্গামারীতে ১১টি গরু বিতরণের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এ তথ্য থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের তালিকা, গরু কেনার ব্যয় ও স্থানীয় বরাদ্দের তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি বিতরণ কার্যক্রম যাচাই করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রামের আলোচিত সংবাদ

বিজ্ঞাপন

ট্যাগ: · · · ·

আরও সংবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য আমীর নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক আঃ আজিজুর রহমান সরকার স্বপন

নভেম্বর 5, 2026

পোস্ট টি পড়া হয়েছে : 13

উলিপুরে আরআরএম ইপি নিয়োগ ঘিরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নভেম্বর 4, 2026

উলিপুর প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরআরএমইপি) আওতায় কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে […]

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ শিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

নভেম্বর 4, 2026

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের দায়ে আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধরলা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫ […]