ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে এক প্রতারক যুবকের বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বসেছেন এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী (১৮)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক বাড়ি থেকে সটকে পড়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে উলিপুর পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এদিকে অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক শত শত নারী-পুরুষ ওই যুবকের বাড়িতে ভিড় জমান।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়ার (২৪) সঙ্গে প্রতিবেশী এইচএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উভয়ের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু সুমন সরকারি চাকরি পাওয়ার দোহাই দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেন। সুমনের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দুজনেই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় ছিল।
কিন্তু গত ৪ জুন সুমন পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র আবারও বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই কিশোরী সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কোনো উপায় না পেয়ে রোববার বিকেলে সুমনের বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বসেন ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
সরেজমিনে রোববার বিকেলে সুমন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে শত শত মানুষের ভিড়। অনশনরত তরুণী অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর থেকে সুমনের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক। পরে আমরা মাদ্রাসার হুজুরের উপস্থিতিতে বিয়ে করি। সুমন আমাকে ভোগ করে ৪ জুন নতুন করে অন্যত্র বিয়ে করেছে। সে যদি আমাকে মেনে না নেয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আমার আসার কথা শুনেই সে পালিয়ে গেছে। তার সাথে আমার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক ছবি ও ভিডিও রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, সুমন ও ওই তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা সবাই জানে। সুমন নতুন করে অন্য জায়গায় বিয়ে করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন।
এদিকে বাড়িতে থাকা সুমনের মা শেফালী বেগম বলেন, “ওকে যদি আমার ছেলে বিয়ে করেই থাকে, তবে বিষয়টি এতদিন কেন আমাদের জানানো হলো না? আমরা দেখে-শুনে ছেলের বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে ওকে মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের দাবি অস্বীকার করে বলেন, “তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিন্তু তা অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে এই নাটক করছে। আর আমার সঙ্গে যেসব অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিওর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা।”
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, অনশনের বিষয়টি এখনো তাদের জানা নেই। ভুক্তভোগী বা অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






