ভালো নেই কামারপল্লী, ঈদ সামনে রেখেও কাজ কম ভূরুঙ্গামারীর কামারদের


Shahariar Srejon প্রকাশের সময় : মে ২৭, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন /
ভালো নেই কামারপল্লী, ঈদ সামনে রেখেও কাজ কম ভূরুঙ্গামারীর কামারদের

মোঃ মাইদুল ইসলাম

পবিত্র ঈদুল আজহা এলেই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাজারের কামারপল্লীতে বেড়ে যেত ব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দা, চাপাতি ও ছুরি তৈরিতে দিন-রাত কাজ করতেন কামাররা। তবে এবার সেই চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য নেই। কাজ কমে যাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে উপজেলার কামারদের।

উপজেলা বাজারে বর্তমানে সাতটি কামারের দোকান রয়েছে। বাজারসংলগ্ন একটি দুর্গন্ধযুক্ত পুকুরের পাশে বসেই প্রতিদিন লোহা পিটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পুকুরে বাজারের ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি গরু জবাইয়ের রক্ত ও ভুঁড়ি পরিষ্কার করা হয়। আশপাশের বাড়ির আবর্জনাও সেখানে ফেলা হয়। ফলে অসহনীয় দুর্গন্ধের মধ্যেই সারাদিন কাজ করতে হচ্ছে কামারদের।

আজিজুল, আলমগীর, ফরিদ, আলামিন, রফিকুল, রোকন, আবুল, মোফা ও মজিবরসহ অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা জানান, আগের তুলনায় এখন কাজ অনেক কমে গেছে। কাঁচামালের দাম বাড়লেও আয় বাড়েনি।

বর্তমানে একটি নতুন চাপাতি বা দা তৈরি করতে প্রায় ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। পুরাতন দা বা চাপাতি মেরামতে খরচ পড়ছে প্রায় ১০০ টাকা। বড় জবাইয়ের ছুরি তৈরি করতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ছোট ছুরি তৈরি বা ধার দিতে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

কামার আজিজুল ইসলাম বলেন,
“গত বছর ঈদের আগে ৪০ থেকে ৪৫টা চাপাতি বানাইছিলাম। এবার এখন পর্যন্ত ২০টার মতো বানাইছি। আগের মতো মানুষ নতুন জিনিস কম বানায়, পুরানোগুলাই ঠিক করে নেয়।”

আরেক কামার আলমগীর বলেন,
“এবার ৪০-৪৫টা চাপাতি বানাইলেও তেমন কাজ নাই। বাজারে মানুষ কম, অর্ডারও আগের চেয়ে অনেক কম।”

কামারদের অভিযোগ, কয়লা, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী মজুরি বাড়ানো যাচ্ছে না। দিনভর আগুনের তাপ আর দুর্গন্ধের মধ্যে কাজ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে অনেকেই বাজার থেকে কারখানায় তৈরি ছুরি ও চাপাতি কিনছেন। ফলে স্থানীয় কামারদের কাজ আগের তুলনায় কমে গেছে।

এদিকে কামাররা বাজার এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও পুকুরটি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশা টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।