রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ছাত্রদল–শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আহত একাধিক


HK প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ন /
রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ছাত্রদল–শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আহত একাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদ | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শহরের রাজারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রশিবিরের রাজারহাট উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সুজন মিয়া, সাবেক অফিস সম্পাদক সামিদ সাকি মাহিন ও কর্মী শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, কর্মী রাকিব ও আপনও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত সুজন মিয়াকে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের দাবি, তাদের দুই নেতার ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালায়। আহত নেতা মাহিন অভিযোগ করেন, ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়াকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরই আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সুজন মিয়াকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হলে তার মাথা ফেটে যায়। মাহিন নিজেও হামলার শিকার হন বলে জানান তিনি। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সহায়তায় এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও এর পেছনে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকে দায়ী করেন। তার দাবি, প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে সরকার ও দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিবির নেতারা গালিগালাজ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কেবল রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পোস্ট করেন এবং কাউকে উসকানি দেন না। বরং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের দাবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। রোববার বিকেলে সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, ফেসবুকের পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।