একই গ্রামে মোবাইলে প্রবাসীর একাধিক বিয়ে, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ন /
একই গ্রামে মোবাইলে প্রবাসীর একাধিক বিয়ে, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

ফজলুল করিম ফরাজি, কুড়িগ্রাম


‎কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একাধিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার সকাল ১১টায় অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

‎মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বরের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে “বর তুমি কার?” স্লোগান দেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে রয়েছেন। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

‎অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি না হলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশে ফিরে সংসার শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

‎তবে এর মধ্যেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সামনে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া বিদেশে থাকা অবস্থায় পাশের নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

‎এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, “মোবাইল বিয়ের নামে প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

‎এ বিষয়ে বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ সামাজিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।”

‎এদিকে, পুরো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে দ্রুত তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।