জীবন বাঁচাতে সাহায্য চান দুই সন্তানের পিতা শফিকুল


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন /
জীবন বাঁচাতে সাহায্য চান দুই সন্তানের পিতা শফিকুল

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪১) দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। তিনি Crohn’s disease (অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ) এবং Intestinal Tuberculosis (অন্ত্রের যক্ষ্মা)-এ আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবন রক্ষায় তিনি এখন সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

বর্তমানে তিনি শেখ রাসেল গ্যাষ্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল (Sheikh Russel Gastroliver Institute & Hospital) এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অন্ত্রে দুই জায়গায় গুরুতর ঘা (আলসার) হওয়ায় অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশন হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ৭ থেকে ১০ দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে।

চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, অপারেশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং অপারেশন-পরবর্তী ওষুধে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগতে পারে। এছাড়া হাসপাতালে থাকা, খাওয়া ও সেবাযত্ন বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি এ রোগে ভুগছেন। তার শরীরে তীব্র রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছে এবং প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ ব্যাগ রক্ত নিতে হচ্ছে। গত দুই মাসেই তার চিকিৎসায় প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে নিজের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব।

শফিকুল ইসলামের পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে (১৩) ও এক মেয়ে (৭)। তার স্ত্রী একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তবে স্বামীর অসুস্থতার সময়ও তিনি ছুটি পাননি, কারণ পূর্বে অনেক ছুটি নেওয়ায় কর্তৃপক্ষ নতুন করে ছুটি দিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে তার ছোট ছেলে বাবার পাশে থেকে সেবাযত্ন করছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, “মানুষের কাছে হাত পাতা যে কত কষ্টের, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বোঝে। জীবনে অনেক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, আজ আমি নিজেই সবার কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছি।”

বর্তমানে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও অর্থের অভাবে তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত না হলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।

এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

📞 বিকাশ/নগদ: 01719289870

একজন অসহায় মানুষের জীবন বাঁচাতে সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র আশার আলো।