জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করব: বিজিবিতে যোগ দিলেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৪, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ন /
জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করব: বিজিবিতে যোগ দিলেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০১১ সালে নির্মমভাবে নিহত ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন অবশেষে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে শপথগ্রহণ করেন তিনি।

এদিন বিজিটিসিএন্ডসির ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা দেশ-বিদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তার ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরফান হোসেন বলেন, “২০১১ সালে আমার বয়স তখন ৬–৭ বছর। সেই সময় আমার বড় বোন ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, আমি যেন দেশের জন্য কিছু করতে পারি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি নিজেকে গড়ে তুলেছি।”

আরফান জানান, তারা তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে কুড়িগ্রামের স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আজ তিনি বিজিবির একজন নবীন সৈনিক হিসেবে শপথ নিলেন।

আবেগঘন কণ্ঠে আরফান বলেন, “আমার বোনকে সীমান্তে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আজ আমি সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান হারাক। দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও চেষ্টা করব যেন আর কোনো বোন পাখির মতো গুলি খেয়ে প্রাণ হারায় না।”