
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পুলিশের সাড়া না পাওয়ায় জনতার হাতে মাদকসহ আটক এক যুবককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক থেকে প্রায় দুই হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক চুরি হয়। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশে খোঁজ নিতে থাকেন। এ সময় এক অপরিচিত যুবককে বিদ্যালয় মাঠে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
শিক্ষকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে আটক করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়শা সিদ্দিকা বিষয়টি উলিপুর থানায় মোবাইল ফোনে জানিয়ে পুলিশি সহায়তা চান। তবে বিকাল পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মঞ্জুসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে কৌশলে ওই যুবককে ছেড়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
মাদকসহ আটক যুবক আব্দুস ছালাম (২৯) গুনাইগাছ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে বলে জানা গেছে।
পূর্ব কালুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়শা সিদ্দিকা বলেন,
“রোববার রাতে পানির ট্যাংক চুরি হয়। সোমবার সকালে আবারও ওই যুবক বিদ্যালয়ে আসলে সন্দেহ হয় এবং আটক করা হয়। তার কাছে গাঁজা পাওয়া যায়। পুলিশকে জানানো হলেও তারা আসেনি। পরে ইউপি সদস্যরা এসে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, এর আগেও বিদ্যালয়ের পানির মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মঞ্জু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনই তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় সবাই বিরক্ত ছিলেন। ওই যুবক আমার ওয়ার্ডের নয়, তবে নেশাগ্রস্ত বলে শুনেছি।”
এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন,
“বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চুরির চেষ্টার অভিযোগে মামলা করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেননি। মাদকের বিষয়ে মামলা নিতে বলেছিলেন। হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখনও অভিযোগ দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :