
নিউজ ডেস্ক
নিশ্চিত। নিচে আপনার লেখাটি পূর্ণাঙ্গ নিউজ রিপোর্ট আকারে (জাতীয়/আঞ্চলিক পত্রিকা স্টাইল) সাজিয়ে দেওয়া হলো—
নিউজ ডেস্ক
আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে এই দিনটি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয় নিশ্চিত জেনে পরিকল্পিতভাবে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করে ফেলা।
২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর পর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা বেছে বেছে হত্যা চালায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের ওপর। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে এ হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত থাকে। হত্যাকাণ্ডের পর রায়েরবাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায় ঘাতকরা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্বজনরা বধ্যভূমিতে তাদের প্রিয়জনদের নিথর দেহ খুঁজে পান।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনেকের দেহে ছিল নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন। কারও চোখ বাঁধা, কারও হাত-পা বাঁধা, অনেকের শরীর ছিল ক্ষতবিক্ষত। লাশের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে স্বজনরা তাদের শনাক্ত করতে পারেননি। অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর দেহ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড মানব ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য ও বর্বর ঘটনা।
বুদ্ধিজীবীদের ‘অপরাধ’ ছিল—তারা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাধিকারের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা করেছিলেন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য নারীর আত্মত্যাগে সেই বিজয় অর্জিত হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন। তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি আজও জাতিকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে “হামার কুড়িগ্রাম”-এর পক্ষ থেকে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ।
আপনার মতামত লিখুন :