বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026info@hamarkurigram.com
হামার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।ভালোর সাথে, আগামীর পথে হামার কুড়িগ্রাম

ধরলার ভাঙনে ঘর-জমি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধের দাবি

· প্রকাশ: · আপডেট:
ফেসবুকে শেয়ার করুন

মাসুদ রানা

একদিকে নদী, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক—প্রতিদিনই যেন নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকার মানুষের জীবন। বসতভিটা, ফসলি জমি হারানোর পর এবার তাদের চোখের সামনে হুমকিতে পড়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। ধরলার অব্যাহত ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগমনের চরে আয়োজিত মানববন্ধনে চার শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেন। এ সময় ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভাঙনে জগমনের চর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি বসতবাড়ি হারিয়ে গেছে নদীর করাল গ্রাসে। একসময় যেখানে ছিল মানুষের ঘর, উঠান আর ফসলের মাঠ, সেখানে এখন নদীর স্রোত।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবার হারিয়ে যেতে পারে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও। নদীর খুব কাছেই রয়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। এসব প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেলে শুধু স্থাপনা হারাবে না, বিপর্যস্ত হবে পুরো চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা।

স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, “প্রতিবছরই নদী আমাদের ঘরবাড়ি আর জমি কেড়ে নিচ্ছে। কতবার যে ঘর সরিয়েছি, তার হিসাব নেই। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই।”

আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে চরাঞ্চলের শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখেমুখেও ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। আজ যে বাড়িটি আছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না—এমন শঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে অনেক পরিবারের।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকাকে টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয়, আর কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীর পানিতে হারিয়ে না যায়—এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ট্যাগ: · · · · · · · · · · · · · · · · · ·

আরও সংবাদ

উলিপুরে আরআরএম ইপি নিয়োগ ঘিরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নভেম্বর 4, 2026

উলিপুর প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরআরএমইপি) আওতায় কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে […]

ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ শিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

নভেম্বর 4, 2026

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের দায়ে আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধরলা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকারের সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫ […]

গুজব ও অনলাইন হয়রানি মোকাবেলায় কুড়িগ্রামে যুব-প্রশাসন সংলাপ

নভেম্বর 4, 2026

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | Hamar Kurigram জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, গুজব, ভুয়া তথ্য ও অনলাইন হয়রানি মোকাবেলায় কুড়িগ্রামে স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও যুব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এসব সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাকক্ষে দিনব্যাপী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি […]