কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | বিশেষ প্রতিবেদন
কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর বখত মিয়ার রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য বর্তমানে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের দেশব্যাপী হরতালের দিনে তিনি কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও শান্তি সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে বিএনপি–জামায়াতের কর্মসূচিকে ‘নৈরাজ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং হরতালবিরোধী অবস্থান ব্যক্ত করেন।
এক নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জানান, নূর বখত মিয়া ওই সময়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তৃতা দিয়ে বিএনপি–জামায়াতের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার রাজনৈতিক অবস্থান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে নূর বখত মিয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সহ-সভাপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
এরপর ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিবের কাছ থেকে কুড়িগ্রাম–২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। পরদিন, ২৭ ডিসেম্বর তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরমও উত্তোলন করেন।
বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। একসময় বিএনপি–জামায়াতের হরতালকে ‘নৈরাজ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা নূর বখত মিয়ার বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে স্বতঃসিদ্ধ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি আদর্শিক রাজনীতির নয়, বরং সুযোগসন্ধানী অবস্থান পরিবর্তনের একটি উদাহরণ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বলেন:
“৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে জনগণ সুবিধাবাদী রাজনীতি মেনে নেয় না। যিনি একসময় আওয়ামী লীগের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি–জামায়াতের হরতালকে নৈরাজ্য বলেছে, তিনি আজ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী—এই প্রশ্নের জবাব জনগণ চায়।”
তিনি আরও বলেন:
“৮ দল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি আমাদের আহ্বান, ৫ আগস্টের আগে যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্তের সঙ্গে প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা করা। এই ধরনের সুবিধাবাদী মুখোশধারীদের মনোনয়ন দিলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না, জনগণও মেনে নেবে না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও চলছে আলোচনা—কিভাবে নূর বখত মিয়া মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত–ইসলামী আন্দোলন জোটে স্থানান্তরিত হলেন। এই ঘটনা তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলেছে।
নূর বখত মিয়ার এই অবস্থান পরিবর্তন আদর্শের কারণে নাকি সময় ও সুবিধার কারণে—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে।

