২১ দিনের অন্ধকার কাটিয়ে আলোকিত মওলানা ভাসানী সেতু


HK প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫, ৬:২৩ অপরাহ্ন /
২১ দিনের অন্ধকার কাটিয়ে আলোকিত মওলানা ভাসানী সেতু

নিউজ ডেস্ক অনলাইন

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষ বহুদিন ধরে প্রত্যাশা করছিলেন মওলানা ভাসানী সেতুর। তবে সেতু উদ্বোধনের ঠিক পরের দিন বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি হওয়ায় রাতের আলো বন্ধ হয়ে যায়। ২১ দিনের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সেতুর বিদ্যুৎ পুনরায় চালু হয়েছে, ফলে সেতু এবং আশপাশের এলাকা আলোকিত হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জের হরিপুরে তিস্তা নদীর ওপর ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করেছে এলজিইডি। গত ২০ আগস্ট উদ্বোধন হওয়া সেতু উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

উদ্বোধনের পরপরই ৩১০ মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি হওয়ায় সেতুর আলো বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা নামলেই এলাকা অন্ধকারে ডুবে যেত, যা চুরি, ছিনতাই এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

দীর্ঘ ২১ দিনের অপেক্ষার পর, সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ ল্যাম্পপোস্টসহ সংযোগ সড়কের বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এখন সেতু ও আশপাশের এলাকা আলোকিত এবং রাতের আলোতে তিস্তার বুকে সেতুর দৃশ্য অপূর্ব।

সেতুর হরিপুর প্রান্তের বাসিন্দা সজল মিয়া বলেন, “ক্যাবল ও রিফ্লেক্টর লাইট চুরিসহ সেতুতে নিয়মিত বিভিন্ন অপরাধ ঘটছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষের নিরাপত্তার জন্য সেতুর দুই পাশে স্থায়ী পুলিশ বক্স থাকা উচিত।”

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী জানান, দীর্ঘ ২১ দিনের চেষ্টার পর সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দুই পাড়ে পুলিশ বক্স স্থাপনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, উদ্বোধনের পর ২১ আগস্ট রাতে ছয়টি ল্যাম্পপোস্টের পাশে ৩১০ মিটার ক্যাবল এবং ২৪ আগস্ট রাতে দুই শতাধিক রিফ্লেক্টর লাইট চুরির ঘটনা ঘটেছিল, যা সেতুর নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

সেতু চালু হওয়ায় যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের আশা, আনন্দ ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা ফিরে এসেছে। তবে একাধিক এক্সিডেন্টের কারণে স্থানীয়রা এখন যানবাহনের গতিবিধি সীমিত করার এবং সেতুতে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন।