ডেস্ক নিউজ
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীতে নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে মাছের পোনা অবমুক্তের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। একই সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা রোধের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে পালিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে সুলতানা সরোবরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘স্বপ্নকুঁড়ি’তে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রামের প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর নদ-নদী শুধু পানির উৎস নয়, দেশীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। তবে নদী ভরাট, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা শিকারের কারণে অনেক দেশীয় মাছের প্রজাতি হুমকির মুখে পড়েছে।
সভায় জানানো হয়, কুড়িগ্রামে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪৯ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। বিপরীতে জেলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে বছরে প্রায় ১ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে।
বক্তারা বলেন, শুধু পুকুর বা বরোপিটে মাছ চাষের ওপর নির্ভর না করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের মতো প্রধান নদ-নদীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত পোনা অবমুক্তের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা রোধ করতে পারলে জেলার মাছের ঘাটতি দূর করে কুড়িগ্রামকে মৎস্য উদ্বৃত্ত জেলায় পরিণত করা সম্ভব।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আজাদুন্নবী শামীম এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ।
আলোচনা শেষে নদ-নদীতে কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর জাল ব্যবহার না করা এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা পোনা মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
