হামার কুড়িগ্রাম

১২ বছরেও পুনর্নির্মাণ হয়নি সাকোরপাড়ের ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

উলিপুর প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাকোরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। এক যুগের কাছাকাছি সময় পার হলেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনতারহাট-সাকোরপাড় সড়কের ওপর ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। হামিদ ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণকাজ করে।

নির্মাণের প্রায় এক বছর পর ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যার সময় পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজটির নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে ব্রিজটি দেবে গিয়ে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই ওই পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রোগীরা। বর্ষায় খাল পার হতে স্থানীয়দের কলার ভেলা কিংবা ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজটির দুই পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান-পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।

খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রিজটির দুই পাশে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিশুদের স্কুলে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ব্রিজ না থাকায় কৃষিপণ্য ঘরে তোলা এবং বাজারে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান বলেন, সাকোরপাড়ের ব্রিজটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পুনর্নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে আগামী বছর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকটের দ্রুত সমাধান করে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Exit mobile version