আশীর্বাদ রহমান ।। কুড়িগ্রাম সদর
নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। ১১ দলীয় এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
এত বড় জনসমাবেশ সত্ত্বেও জেলা শহরে যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে কুড়িগ্রাম ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে জেলার প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর এলাকায় সকাল থেকেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পেরেছেন।
ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন আয়োজক পক্ষের স্বেচ্ছাসেবীরাও। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত এই উদ্যোগে জনসভা চলাকালে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বড় ধরনের ব্যাঘাত ছাড়াই সচল থাকে।
ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন যানবাহন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। কুড়িগ্রাম জেলা রিকশা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সাংবাদিক আশির্বাদ রহমান বলেন, দিনমজুর রিকশাচালকরা সুষ্ঠুভাবে যাত্রী পরিবহন করতে পেরেছেন। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিতভাবে চালকদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে, ফলে সবাই নিয়ম মেনে চলাচল করেছে।
রিকশাচালক মোজাফফর বলেন, বড় জনসভা থাকলে সাধারণত চলাচলে সমস্যা হয় বলে আশঙ্কা থাকে। তবে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় তারা নির্বিঘ্নে রিকশা চালাতে পেরেছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে জনসভা চলাকালে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাদের মতে, এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, ট্রাফিক পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ কুড়িগ্রাম শহরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা ভবিষ্যতেও বড় আয়োজন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

