মোঃ মশিউর রহমান বিপুল ।। কুড়িগ্রাম সদর প্রতিনিধি
নদ-নদী বেষ্টিত, সীমান্তঘেঁষা ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা কুড়িগ্রাম। হাড় কাঁপানো শীত ও হিমেল হাওয়ায় যবুথবু হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ। চলতি মৌসুমে শীত যেন রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে কুয়াশা।
প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত স্থানভেদে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। এর সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বেলা গড়ালেও দেরিতে সূর্যের দেখা মিলছে, ফলে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। গত তিন দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
আজ (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী মানুষ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন,
“কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কিন্তু এই শীতে কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে, শরীর কামড়ায়।”
ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ, কম্বল কেনার টাকা নাই। এখন পর্যন্ত কোনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান আমাদের কম্বল দেয়নি।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত শীতের প্রভাবে তার ছোট শিশু কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন,
“শীতের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে। কেউ বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।”
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান,
“চলতি শীতে জেলার ৯টি উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

