
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থান। সেই কবরস্থানই যদি পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বজনদের হাতেই ভাঙচুরের শিকার হয়, তবে তা শুধু জমি নিয়ে বিরোধ নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও চরম অবক্ষয়— এমন মন্তব্য এখন কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার দালালীপাড়া গ্রামের মানুষের মুখে মুখে।
কুড়িগ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে স্বজনদের কবরস্থান ভেঙে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ভাতিজার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ, নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনগত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার দালালীপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ১ শতক জমি, যার দাগ নম্বর ৬৭৫৯। জমিটি সরকারি রেকর্ডে কবরস্থান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন মোঃ নুর মোহাম্মদ বাহারউল্যা, সাজু, তাজ ও লতিফুল ইসলাম রওশনসহ কয়েকজন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কবরস্থানের উপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমনকি ভাড়াটিয়া লোকজন এনে কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন,
“এই কবরস্থানে শুধু আমার বাবাই নন, তাদের আপন ভাই ও চাচারাও শায়িত আছেন। ভবিষ্যতে জমি নিয়ে কোনো বিরোধ যেন না হয়, সে কারণে পরিবারের সবার সম্মতিতেই ১ শতক জমি কবরস্থানের নামে রেকর্ড করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কবরস্থান ভেঙে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু জমি দখলের বিষয় নয়, মৃত স্বজনদের প্রতিও চরম অসম্মান।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী মোঃ শহিদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে নিজের স্বজনদের কবর ভেঙে রাস্তা বানাতে পারে! যাদের ছায়ায় বড় হয়েছে, আজ তাদের কবরের বুক চিরে হাঁটতে চায়। এমন ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে একাধিকবার গ্রাম্য শালিসের উদ্যোগ নেয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। বরং প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে অভিযুক্ত বাহারউল্যা গং বলেন,
“এটা আমাদের জমিজমার বিষয়। প্রশাসন যা করার করবে, আমরা সেটার মোকাবিলা করবো।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী বলছেন, পারিবারিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু মৃত স্বজনদের কবরস্থান নিয়ে এমন আচরণ সমাজের জন্য অশনিসংকেত। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :