কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের খামার রসুলপুর গ্রামে ৮ বছরের শিশু মোরশেদ আলীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার পরিবার ও স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু মোরশেদ আলী। মাত্র সাত মাস বয়স থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল সে। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা।
মোরশেদের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পরিবারের শেষ সম্বল প্রায় সাড়ে ২০ শতক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, জমি বিক্রির চুক্তি হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়মতো টাকা না পাওয়ায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মোরশেদের অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে শিশুটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর থেকেই শিশুটির মরদেহ বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবেন না।
এ ঘটনায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের এনসিপি নেতা মমিনুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকা সংক্রান্ত ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল এবং সময়মতো টাকা না পাওয়ায় শিশুটির চিকিৎসা ব্যাহত হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মমিনুল ইসলাম মামুন। তিনি বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই জড়িত ছিলেন এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তিনি এসবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
মামুন আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ধরে মামলা চলেছে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল এবং তারা টাকা গ্রহণও করেছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে শিশুটির মৃত্যু, জমি বিক্রির অর্থ এবং অস্ত্রোপচার না হওয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।






