শোকের দিনে খাসি দিয়ে ভূরিভোজের অভিযোগ কচাকাটা থানার ওসির বিরুদ্ধে


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ন /
শোকের দিনে খাসি দিয়ে ভূরিভোজের অভিযোগ কচাকাটা থানার ওসির বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় খাসি জবাই করে ভূরিভোজ ও মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানার বিরুদ্ধে।

সরকার ঘোষিত তিন দিনের শোক চলাকালে আনন্দ-উৎসব ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সীমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কচাকাটা থানায় এ ধরনের আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাইসাল তার ফেসবুক প্রোফাইলে খাসি জবাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন— “২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে।”
অন্য একটি পোস্টে থানার ওসি সোয়েল রানা ও এসআই ইব্রাহিমের খাবার গ্রহণের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়— “কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়।”
এছাড়াও একজন কনস্টেবলকে একই ধরনের পোস্ট দিতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, একই রাতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী থানায় গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও মিষ্টিমুখ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫ কেজি মিষ্টি নিয়ে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান, যা পরে বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানান।

বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাইদুল ইসলাম বলেন,
“রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে কচাকাটা থানায় খাসি মেরে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে—এতে আমরা মর্মাহত। খবর পেয়ে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চার ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেছি।”

জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়ন নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন বলেন,
“জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণসংযোগ বিষয়ে ওসিকে অবহিত করতে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এ সময় বলদিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে আসেন।”

বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন,
“দেশনেত্রীকে হারিয়ে যখন সারা দেশের মানুষ শোকাহত, তখন কচাকাটা থানায় ওসিসহ কর্মকর্তারা ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন,
“থানায় কোনো পার্টি বা ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়নি। আমাদের মেসে প্রতি মাসের শেষ দিনে খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো আয়োজন ছিল না।”

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানান,
“বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”