
আজ যখন আমরা এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, তখন আমাদের পেছনে ফিরে তাকানো জরুরি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট—বিগত দেড় দশকে কার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়নি? হাজারো ভাই পঙ্গু হয়েছেন, অসংখ্য পরিবার চিরতরে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। আলেমদের চোখের পানিতে ভিজেছে জায়নামাজ। এই রক্ত আর অশ্রু কি আমরা এত সহজে ভুলে যাব?
বর্তমান নির্বাচনী ডামাডোলে আমরা লক্ষ্য করছি—দীর্ঘদিনের সঙ্গী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তিক্ততা ও আক্রোশ বাড়ছে। ক্ষমতার মোহ কিংবা সিটের হিসাব যেন আমাদের শহীদ ভাইদের রক্তের ওপর দিয়ে অগ্রসর না হয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মাঠের প্রতিযোগিতা যেন মনের শত্রুতায় পরিণত না হয়।
আমাদের এই বিভেদের সুযোগ নিয়ে যেন সেই পুরনো অপশক্তি আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে। আজ যদি আমরা একে অপরের কলার ধরি, তবে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছে—তাদের আত্মা আমাদের ক্ষমা করবে না।
গালি, কটূক্তি কিংবা হাতাহাতি কোনো সমাধান নয়। আপনার পছন্দের দলকে ভোট দিন, কিন্তু অন্য দলের ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না।
রাজপথে পুলিশের গুলির মুখে বুক পেতে দাঁড়ানোর সময় আমরা দেখিনি কে কোন দল করি—আমরা দেখেছি আমরা সবাই মজলুম, এই মাটির সন্তান। আজ শুধুমাত্র চেয়ারের জন্য কেন সেই ভ্রাতৃত্ব বিসর্জন দেব?
মনে রাখবেন—রাজনীতি ক্ষমতার জন্য হতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রয়োজন ঈমানি ভ্রাতৃত্ব। নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই জনপদে আমাদের একসাথেই বসবাস করতে হবে।
আসুন, সকল প্রকার হানাহানি ও তিক্ততা পরিহার করি। বিএনপি ও ইসলামি দলগুলো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে, কিন্তু শত্রু নয়। জালেমের বিরুদ্ধে যে লড়াই আমাদের এক করেছিল—সেই লক্ষ্য যেন অটুট থাকে।
আল্লাহ আমাদের মধ্যে ঐক্য, ধৈর্য ও প্রজ্ঞা দান করুন। আমিন।
#ঐক্যবদ্ধ_বাংলাদেশ
#নির্বাচন_২০২৬
#ভ্রাতৃত্বের_ডাক
#সহিংসতা_পরিহার
#মজলুমের_একতা

লেখকঃ মাওলানা হোজায়ফা বিন গাজী
সাধারণ সম্পাদক
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
ফুলবাড়ি উপজেলা শাখা, কুড়িগ্রাম
আপনার মতামত লিখুন :