নিজস্ব প্রতিবেদক | Hamar Kurigram
ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রইস উদ্দিন বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কাশিপুর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি মাদক মামলার প্রসঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে র্যাব-১২, বগুড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের একটি সড়কে অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের সেদিনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি পিকআপে করে মাদকের বড় চালান বহন করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩৩ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, একটি পিকআপ, তিনটি মোবাইল ফোন, পাঁচটি সিম কার্ড এবং নগদ ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।
অভিযানে পিকআপচালক মো. কামরুল ইসলাম (২৩) এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর কাশিপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রইস উদ্দিন (৩৬)-কে আটক করা হয়। পরে র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মীর মনির হোসেন জানান, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক দুইজনকে বগুড়ার শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্প্রতি ফুলবাড়ী উপজেলায় আয়োজিত একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির কাশিপুর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক রইস উদ্দিনকে ঘিরে ২০২৪ সালের মাদক মামলার পুরোনো তথ্য, র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও বিভিন্ন ছবি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এমন অভিযোগে পূর্বে আলোচিত একজন ব্যক্তির দলীয় পদে থাকা কতটা সমীচীন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রইস উদ্দিন দাবি করেন, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় “রহিচ উদ্দিন” নামে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির উল্লেখ থাকায় কাশিপুর ইউনিয়নের একই নামের তিনজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। তিনি বলেন, পরে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে মামলাটি থেকেও অব্যাহতি পান।
তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে যে ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি। র্যাব তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে ছবি তুলেছিল, সেখানে মাদকদ্রব্য তার সামনে ছিল না; পরবর্তীতে আলাদা দুটি ছবি একত্র করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রইস উদ্দিনের দাবি, তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, প্রথমে জামায়াতের কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেন, পরে বিএনপির কিছু সমর্থকও সেই প্রচারণায় যুক্ত হন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে এনসিপি গঠনের সময় দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি কাশিপুর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, রইস উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কৃষকদের ধান ক্রয়ের স্লিপ, ১০ কেজি চাল বিতরণ, টিউবওয়েল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে একটি বেসরকারি দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তাদের অভিযোগ, কাশিপুর ইউনিয়নে সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করছেন।
স্থানীয়দের একটি অংশ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদের কাছে রইস উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
