ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর গোলাপি খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডোবার পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া মরদেহের গলায় ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল একটি কংক্রিটের ব্লকের খণ্ডিত অংশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত গোলাপি খাতুন সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের প্রবাসফেরত সৈয়দ আলীর স্ত্রী। পরিবারের দাবি, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই বিরোধে দায়ের করা একটি মামলার বাদী ছিলেন গোলাপি। স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিপক্ষ বারবার চাপ সৃষ্টি করছিল।
নিহতের স্বামী সৈয়দ আলী জানান, মামলার কারণে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং সেখানে বসবাসে বাধা সৃষ্টি করে। পরে তারা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২৮ জুলাই গোলাপিকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ফোনে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
গোলাপির ভাই বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি রৌমারী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

