রৌমারীতে তেল নিতে আসা তিন কৃষককে পুলিশ সদস্যের লাথি মারার অভিযোগ


Hamar Kurigram প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন /
রৌমারীতে তেল নিতে আসা তিন কৃষককে পুলিশ সদস্যের লাথি মারার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা তিন কৃষককে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্ত রৌমারী থানা পুলিশের ড্রাইভার কনস্টেবল মো. গাফফার আলী অশালীন ভাষা ব্যবহারসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। 

লাথিমারার ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ কৃষক ও পাম্পে তেল নিতে আসা জনসাধারণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। 

অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের ওই ড্রাইভার দেয়াল টপকে আত্মরক্ষা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় চলমান তেল সংকটে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি শুরু হয়। তেলের জন্য কৃষকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান। এ সময় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই রৌমারী থানা পুলিশের ড্রাইভার কনস্টেবল মো. গাফফার তিন কৃষককে লাথি মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। 

এ সময় আরেক কৃষক ও  নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তি প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা লাইনে থাকা কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত পুলিশের ড্রাইভার সাংবাদিকদের উদ্দেশে করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ওই ড্রাইভারকে ধাওয়া করলে সে বাউন্ডারি দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। 

প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল আমিন বলেন, কয়েকশ কৃষক ডিজেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের গাড়িচালক পরপর তিন কৃষককে লাথি মারে। আমিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি খারাপ আচরণ করেন।

অভিযুক্ত গাফ্ফার আলী বলেন, কৃষকরা তেলের ড্রাম নিয়ে বারবার ভিড় করছিল। তাদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে এলে আমি তাদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করি। তবে বিষয়টি আমার ঠিক হয়নি। 

রৌমারী থানার অফিসার ওসি কাওসার আলী বলেন, এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি, তবে খোঁজ নিচ্ছি।