রাজীবপুর প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর দাখিল মাদ্রাসায় নির্দেশিত গাইড বই না কেনায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া দুই শিক্ষার্থীকে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর চার শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থী লিজার বাবা মতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, নির্দেশিত গাইড বই না কেনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিসুর রহমান ষষ্ঠ শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে ডেকে আনেন। পরে বাঁশের বেত ও হাত দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দুজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাদের মধ্যে তার মেয়ে লিজাও রয়েছে।
অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাথায় পানি দেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অভিভাবকেরা তাদের রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে দুই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গাইড বই কেনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বদরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত গরম ও পাতলা পায়খানার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।”
এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েকুল হাসান খান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

