
নিউজ ডেস্ক অনলাইন
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শিবেরডাঙ্গী এলাকার এক কৃষক আবু বক্করকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পুলিশ আবু বক্করের ছেলে রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য তাদের বাড়িতে যায়। সে সময় ওয়ারেন্টভুক্ত মামলার কথা বলে শুধু রাসেলকেই নয়, তার বাবাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে আবু বক্করের নাম আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাসেল মিয়ার অভিযোগ, তারা যে মামলার ওয়ারেন্টের কথা বলে গ্রেপ্তার হন, সেই মামলায় ইতোমধ্যেই খালাস পেয়েছেন। খালাসের নথি দেখালেও পুলিশ তা অগ্রাহ্য করে। পরবর্তীতে নতুন করে তার বাবাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে মামলায় যুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়। যদিও রাসেল জামিন পান, কিন্তু তার বাবা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ নাকচ করেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জানান, “দলীয় কোনো কমিটিতে আবু বক্করের নাম নেই, তিনি কখনো সংগঠনের কাজে অংশও নেননি। ষড়যন্ত্র করেই তাকে নেতা বানানো হয়েছে।” একই বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ছক্কুও।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আসল রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের ধরা হচ্ছে না, বরং সাধারণ কৃষককে পদধারী বানিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল লতিফও বলেন, “আবু বক্কর নামে কাউকে চিনিই না, অথচ মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।”
ওসি শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, আবু বক্কর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেই পদে রয়েছেন অন্য এক আবু বক্কর, যার নাম ও মোবাইল নম্বরও কমিটিতে যুক্ত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ওসি বলেন, “তার নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হবে।” অথচ এজাহারে উল্লেখ আছে, তদন্তে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার আবু বক্করের পরিবার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তিনি কৃষক, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে তার মুক্তি ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এলাকার সচেতন মহল বলছে, একজন সাধারণ কৃষককে রাজনৈতিক পরিচয়ে ফাঁসানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এটি স্পষ্ট ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।
আপনার মতামত লিখুন :