
ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের বাজেমুজরায় গ্রামে বসতবাড়ির জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। মামলা দায়ের করেও এখনো প্রতিকার না পাওয়ার দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী শাহজামাল ও লুৎফুর রহমান দলবল নিয়ে জোরপূর্বক একটি বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তার অংশ দখল করেছেন। এ সময় তাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, মেম্বার মোসলেম উদ্দিন এবং তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগী টুটুল সরকার ও জাফরুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে তাদের বসতবাড়ির প্রবেশপথের একটি অংশ দখল করা হয়। এরপর তারা আইনের আশ্রয় নিলেও দীর্ঘ সময়েও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং এখনো মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
টুটুল সরকার বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু এখনো জমি ফেরত পাইনি। উল্টো বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০০২ সালে বৈধভাবে জমি ক্রয় করা হলেও পাশের জমির মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হঠাৎ করেই ওই জমির চলাচলের পথ দখল করে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি থানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন নামে এক পক্ষ বলেন, “আমার ২১ শতাংশ জমি সঠিকভাবে বুঝিয়ে না দিয়ে অন্যভাবে পরিমাপ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।”
তবে অভিযুক্ত শাহজামাল ও লুৎফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্বে তাদের চলাচলের রাস্তা দখল করা হয়েছিল। সেই জমি পুনরুদ্ধার করতেই এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনায় কুড়িগ্রাম জজ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে আইনি জটিলতায় আটকে আছে পুরো বিষয়টি।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
আপনার মতামত লিখুন :