
সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে প্রতিষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের অঙ্গীকার নিয়ে জন্ম নেওয়া এ সংগঠন শুরুর দিক থেকেই আলোচনায় থাকলেও, সময়ের প্রয়োজনে তাদের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। পাকিস্তান রাষ্ট্র ও জামায়াত ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্ম নিলেও, জামায়াত প্রথমদিকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কৌশল বদলায় এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভূমিকা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। মুক্তিকামী জনগণের বিরুদ্ধে আলবদর, রাজাকার ও শান্তি কমিটি গঠনে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আজ ইতিহাসের অংশ। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান তাই এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
বহুদলীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলে জামায়াত আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সুযোগ পায়। এরপর ধীরে ধীরে তারা জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা করে নেয়। ১৯৮৬ সালে স্বৈরশাসক এরশাদকে বৈধতা দেওয়ার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী হয়ে জামায়াত অংশ নেয়। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাথে জোট গড়ে ক্ষমতায় অংশীদার হয়। ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য দলটি আদর্শের চেয়ে সুযোগ-সন্ধানীতাকেই প্রাধান্য দিয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট ২০২৫ সালেও জামায়াতের একাংশ প্রকাশ্যে বলছে তারা এক পাকিস্তানে বিশ্বাসী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে দেখে। মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এমন বক্তব্য কেবল বিতর্কই নয়, বরং দলের আদর্শিক দেউলিয়াত্বেরও পরিচায়ক। সাত দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও জামায়াতের রাজনীতি আজও প্রশ্নবিদ্ধ। স্বাধীনতার বিরোধী অবস্থান, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী জোটবদ্ধ রাজনীতি, এবং আজও পাকিস্তানি চিন্তায় আস্থাশীলতা—এসবই দেখায় যে, আদতে জামায়াতের কোনো স্থায়ী নীতি ও আদর্শ নেই। প্রশ্ন জাগে—একটি স্বাধীন দেশে এমন দল কিভাবে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকে, আর জনগণ কতটা গ্রহণযোগ্যতা দেয় তাদের?

