হামার কুড়িগ্রাম

মিথ্যা মামলায় ২ দিন কারাভোগ, ৬ মাস ধরে হাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক শাহজালাল হোসেন সৌরভকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি মামলায় ভুলবশত আটক করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মী সন্দেহে তাকে আটক করা হলেও তিনি ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সম্মুখসারির একজন। পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন পেলেও গত ছয় মাস ধরে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটা ভুল সিদ্ধান্ত, একটা অসাবধানতা—একটা নির্দোষ ছেলে ও তার পরিবারের জীবনে কত বড় দুর্ভোগ নামিয়ে আনতে পারে, সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছি।”

তিনি জানান, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে ফুলবাড়ী উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ, আইনজীবীদের সহায়তা এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শেষে আইজিপির হস্তক্ষেপে তার জামিন নিশ্চিত করা হয়।

লোকমান হোসেন লিমনের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভের মুক্তির জন্য টানা কয়েকদিন বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “কখনো কাগজপত্র, কখনো আইনজীবী, কখনো প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ—শুধু একটা নির্দোষ ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলায় কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আদালতে হাজিরা দিতে হওয়ায় সৌরভের পড়াশোনা, পারিবারিক জীবন এবং মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্ট্যাটাসে তিনি জানান, সম্প্রতি সৌরভকে সঙ্গে নিয়ে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় এসপি বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আইনি প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না, তবে সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী।

পুলিশ বাহিনীর প্রতি সম্মান জানিয়ে লোকমান হোসেন লিমন বলেন, “আমাদের পুলিশ বাহিনীরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। পর্যাপ্ত ছুটি নেই, ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়, নানা চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। আমরা সেটা বুঝি এবং সম্মান করি। তারপরও আরও সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা জরুরি।”

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ছোট ভুলও কোনো নির্দোষ ব্যক্তি ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ সংকটে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়ভিত্তিক ও ইতিবাচক পুলিশি কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, “শুধু পোস্ট, ছবি বা স্লোগানের রাজনীতি না—মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই আসল দায়িত্ব। পলিটিক্সে আবেগ আর শো-অফ মানুষকে পাবলিক ফিগার বানায়, কিন্তু ভালো লিডার বানায় না।”

Exit mobile version