Site icon হামার কুড়িগ্রাম

মানবিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেল এক অসহায় বৃদ্ধার জীবন। রাজারহাটে নতুন ঘর পেয়ে হাসি ফুটেছে দুর্গাময়ীর মুখে

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মানবিক সহায়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করা তিন সন্তানের জননী ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা দুর্গাময়ী পেয়েছেন একটি নতুন বসতঘর।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসামত নাখেন্দা গ্রামের বাসিন্দা মৃত জবিকান্তের স্ত্রী দুর্গাময়ী স্বামীর রেখে যাওয়া নড়বড়ে একটি ঘরে বসবাস করতেন। খুঁটি ও ভালো চাল না থাকায় বৃষ্টি-বাদলের সময় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হতো তাকে। সেই পুরোনো ঘরের স্থানে ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত দুর্গাময়ী দাতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দুর্গাময়ী বলেন, “আমার একমাত্র ঘরটাও ছিল খুব নড়বড়ে। বৃষ্টি হলেই ভয় লাগতো কখন পড়ে যায়। অনেকের কাছে একটি ঘরের কথা বলেছিলাম। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন ডলার আবেদীন ভাই। প্রতিবেশী সাংবাদিক এনামুল হক সরকারকে বিষয়টি বলার পর তার উদ্যোগে আজ আমি নিরাপদ একটি ঘরে থাকতে পারছি। বাকি জীবনে আমার আর কোনো ঘরের প্রয়োজন নেই।”

তিনি আরও বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা রক্ষার জন্য আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে এবং দুবেলা খাবারের জন্য এখনো তাকে অন্যের বাড়ি ও খামারে কাজ করতে হয়। যারা তার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে মঙ্গল কামনা করেন।

প্রতিবেশী সাংবাদিক এনামুল হক সরকার বলেন, “দুর্গা বৌদি অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। এই বয়সেও পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ঘরটি বসবাসের অযোগ্য ছিল। বিষয়টি ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির সাবেক মহাসচিব ডলার আবেদীন ভাইকে জানালে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ান। তার উদ্যোগেই আজ দুর্গা বৌদির স্বপ্নের একটি ঘর বাস্তবায়িত হয়েছে।”

ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির সাবেক মহাসচিব ডলার আবেদীন বলেন, “আমি শুধু সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছি। সমাজের মানবিক ও সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতায় যতটুকু পারি সামাজিক কাজ করার চেষ্টা করি। দুর্গা দিদির ঘরের জন্য মানবিকভাবে এগিয়ে এসেছেন ড. বিকাশ দাস, ইঞ্জিনিয়ার রুবেলুজ্জামান বিদ্যুৎ, রেহেনা ইয়াসমিন মলি, আতাউর রহমান সিআইপি, সাকিকুল ইসলাম টিটু এবং আমিসহ আরও অনেকে। এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও শিকড়ের টানে ভালোবাসার প্রকাশ।”

Exit mobile version