
মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদর বাজারের মাছ বাজারে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও দোকানের মাছ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মাছ বিক্রি বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ বন্ধ হয়ে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাইকের ছড়া এলাকার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আবু তালেফ (৪৫) পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। তিনি দাবি করেন, গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেওয়ানের খামার এলাকার বাসিন্দা মোঃ শামিম হোসেন (৩৬), পিতা-মৃত খোকা ব্যাপারীর কাছে ২০০ টাকার মাছ বিক্রি করেন।
পরদিন ৪ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে শামিম হোসেন তার দোকানে এলে পূর্বের মাছ বিক্রির টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শামিম ক্ষিপ্ত হয়ে পাশের দোকানের ঝাপের রড দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় আঘাত তার ডান পায়ে লাগে এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে কিল-ঘুষি মারার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং দোকানে থাকা মাছ নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ হামিদুল ইসলাম, শ্রী প্রফুল্ল বিশ্বাস ও মোঃ আব্দুস সালাম এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত তাকে হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অসুস্থতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে না পারলেও পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর রশিদের মাধ্যমে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদর বাজারের মাছ বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আবু তালেবের কাছ থেকে শামিম বাকিতে মাছ নেওয়ার পর টাকা চাইতে গেলে উল্টো তিনি দাবি করেন মাছ নাকি পঁচা ছিল এবং পরে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার দাবিতে মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ধর্মঘটের ফলে বাজারে মাছ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মাছ কিনতে এসে সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েন এবং অনেকেই মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
এ বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের ঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
তারা আরও বলেন, ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :