
মোঃ মাইদুল ইসলাম || ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, কৃষক-শ্রমিক আন্দোলন ও মজলুম মানুষের অধিকার আদায়ের অগ্রনায়ক মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাসানী ভক্ত ও অনুসারীরা ভূরুঙ্গামারীর কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের ভাসানী নগরে দিবসটি পালন করেন।
সকালে কোরআন খতমের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ, সংগ্রামী জীবন ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া। রাতে তরিকতপন্থী শিল্পীরা পরিবেশন করেন ভক্তিমূলক সংগীত।
সন্ধ্যায় ভাসানীর জীবন, সংগ্রাম ও মানবিক দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভাসানীর নাতি মোঃ মনিরুজ্জামান খান মনির ভাসানী। সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ জহুরুল ইসলাম।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাস্টার, ভাসানী অনুসারী ইউনুছ আলী, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান খান জুয়েল, এনসিপির ভূরুঙ্গামারী উপজেলা আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান খান হাফিজ, আন্ধারীঝাড় শেখ কালু মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজ্জাকুল আলম লেলিন, রায়গঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম গোলাম মোস্তফা।
বক্তারা বলেন, মাওলানা ভাসানী ছিলেন উপমহাদেশের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা, যিনি কৃষক-শ্রমিকসহ সমাজের নিপীড়িত মানুষের অধিকারের পক্ষে সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সাহস, মানবিক দর্শন এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অদম্য চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বক্তারা আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, কাগমারী সম্মেলন এবং মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা—সবক্ষেত্রেই ভাসানী ছিলেন এক যুগান্তকারী নেতা।
দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সত্য কথা বলার সাহস এবং রাজনৈতিক সততার দৃষ্টান্ত আজকের প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক।
আলোচনা সভা শেষে রাতে তরিকতপন্থী শিল্পীরা ভক্তিমূলক ও আধ্যাত্মিক সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত ভক্ত-অনুসারীদের আবেগাপ্লুত করে।
ভাসানী ভক্তরা জানান, জাতির বৃহত্তর কল্যাণে মাওলানা ভাসানীর মানবিক আদর্শ, শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন এবং কৃষক-শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের চেতনা চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :