
মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। ভূরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন বিষয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে বলতে শোনা যায় ওসি এসপি ও ডিসি তাকে বাই নামে চিনে। আওয়ামীলীগের যারা বিএনপিতে যোগদান করেছেন তাদের পুলিশ ধরবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ছাত্র শক্তির স্থানীয় নেতারা। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে আওয়ামী লীগের দোসরদের দলে জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগে সরব হয়েছেন তারা।
জাতীয় ছাত্র শক্তি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সিনিয়র সংগঠক মোঃ আজিজুর রহমান স্বপন আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকারকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
বিবৃতিতে আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে যারা জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা আজ দলীয় কর্মসূচিতে বসার জন্য চেয়ার পর্যন্ত পাচ্ছেন না। অথচ যারা নির্যাতন চালিয়েছে, তারাই নির্বাচনের প্রস্তুতির নামে সামনের সারিতে জায়গা করে নিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, দলকে সুসংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দুঃসময়ের ক্ষতিকর শক্তিকে পুনর্বাসনের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও কৌশলের রাজনীতি বাদ দিয়ে রাজপথে পরীক্ষিত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায় এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় ছাত্র শক্তি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আহসান হাবীব লিংকন বলেন, “বিগত ১৭টি বছর আমাদের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনে পঙ্গু হয়েছে, জেল খেটেছে এবং ঘরছাড়া হয়েছে। আজ সেই নির্যাতকদের আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যা আমাদের জন্য চরম অপমানের।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তিবিশেষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শহীদ জিয়ার আদর্শকে কলঙ্কিত করতে দেওয়া হবে না। যারা আওয়ামী লীগকে পিছনের দরজা দিয়ে সামনে আনার চেষ্টা করছেন, ছাত্র সমাজ তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে চিহ্নিত অপরাধীদের দলে ভিড়াতে হবে। আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে অতিসত্বর এই আত্মঘাতী রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।”
জাতীয় ছাত্র শক্তি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হাসান মাহমুদ জয় বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নে স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের ব্যাকডোর দিয়ে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এটি রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
তিনি আরও বলেন, দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে, এর অর্থ এই নয় যে খুনি ও গণশত্রুদের দলে ঠাঁই দিতে হবে। তৃণমূলের কর্মীরা সজাগ রয়েছে এবং নীতিবিবর্জিত কর্মকাণ্ডের পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল ও সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ভিডিওটি দেখেছি এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :