
মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনবল নিয়োগ, অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র জমি জটিলতার কারণে এখনো স্থাপিত হয়নি একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন।
বর্তমানে এই অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাগেশ্বরী ফায়ার স্টেশন থেকে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। ফলে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
এদিকে কচাকাঁটা থানা দুধকুমার নদীর ওপারে অবস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই এলাকায় সরাসরি কোনো স্থলপথ না থাকায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শহর ঘুরে যেতে হয়, যা সময়ক্ষেপণের বড় কারণ। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের মতে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শহর বা এর আশেপাশে একটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হলে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
নাগেশ্বরী ফায়ার স্টেশন এর দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নামে ফায়ার স্টেশন আছে, এখানে জনবল নিয়োগ দেয়া আছে কিন্তু কাজ করছে অন্য স্টেশনে। তাদের বেতন ভাতা সব ভূরুঙ্গামারী ফায়ার স্টেশন থেকেই হচ্ছে। এছাড়া এই স্টেশনের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম অন্যত্র ব্যবহার হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি কচাকাঁটা-মাদারগঞ্জ এলাকার সঙ্গে নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে কালীগঞ্জ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।
স্থানীয়রা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :