Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ভূরুঙ্গামারীতে টানা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

মোঃ মাইদুল ইসলাম, ভুরুঙ্গামারী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গত দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে বোরো ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষতির কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টির ফলে পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢ্যাঁড়স, কচুসহ নানা ধরনের সবজি ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে বোরো ধান ও ভুট্টার ক্ষেতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। চৈত্র মাসে এত টানা বৃষ্টিপাত এর আগে খুব কমই দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেতেই জমিতে পানি জমে থাকায় ভুট্টার গাছ ঝড়ো হাওয়ায় হেলে পড়েছে। অন্যদিকে, বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষকরা। এতে করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে গম, ১ হাজার ৭০ হেক্টরে ভুট্টা, ১ হাজার ৭০ হেক্টরে সবজি এবং ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা হেলে পড়েছে এবং প্রায় ২ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকরেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে ঝড়ের সময় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এখন আর ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে না।”

আরেক কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, “আগেই আলু চাষে খরচ তুলতে পারিনি। এখন আবার ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢ্যাঁড়সসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ব।”

সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ঝুকিয়া বিল এলাকার কৃষক সুররত আলী জানান, “টানা বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এতে আমার আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২৭০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষকের মাঝে আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন মৌসুমে প্রণোদনার আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

টানা বৃষ্টির এই বিরূপ প্রভাবে ভূরুঙ্গামারীর কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

Exit mobile version