
মোঃ মাইদুল ইসলাম ।। ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারকে মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও স্বর্ণালঙ্কার- টাকা-পয়সা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রুপা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে এবং পুনরায় ৯ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী লাভলু মিয়া (৪৭) ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথম দফার ৬ ডিসেম্বর এলাকার আনোয়ার হোসেন (৬৫) নেতৃত্বে ১৮ জন ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন লাভলুর দখলীয় জমিতে ঢুকে পাকা ধান নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেন তার ছোট ভাই মতিন মিয়া। এতে আসামিরা লাঠিসোটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে।
চিৎকারে বড় ভাই শাহ আলম, ভাতিজা ইমরান, ভাতিজা মাইদুলসহ অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। লাভলুর অভিযোগ, দুই আসামি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে-পিঠে আঘাত ও গলা টিপে ধরেন। ভাতিজা বউ রুপা বেগমকে টেনে-হিঁচড়ে ফেলে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এজাহারে বলা হয়, দ্বিতীয় দফার ৯ ডিসেম্বর আসামিরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে লাভলুর পরিবার পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই সুযোগে ৯ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতবাড়ির বেড়া চাটাই ভেঙে প্রায় ২০,০০০ টাকার ক্ষতি করে। সুকেজ, ট্রাংক, ড্রেসিং টেবিল ভাঙচুর করে জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে। ড্রয়ারে থাকা ১২,২০০ টাকা, মতিন মিয়ার গরু বিক্রির ৫৫,০০০ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ১ ভরি হার, ৬ আনা দুল, বালা ও ৮ আনা চেইন, মোট মূল্য ২,৬০,০০০ টাকার বেশি লুট করে।
সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি বলে দাবি ভুক্তভোগীর। ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে জাহিদুল ইসলাম (৪৬), জয়নাল আবেদীন (৬৬), সোহেল মিয়া (৪২), বিউটি বেগম (২৪) সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাভলু মিয়া বলেন, “আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি। আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত প্রতিকার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জানান, যেসব অভিযোগ করেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :